
Voices That Shape Us
Poetry, stories, and truths from the soul

Poetry, stories, and truths from the soul
© 2025 Thaahor. All rights reserved.
POETRYজুম্মার বারান্দায় কতগুলা নেহাত শিশু খেলে, দুষ্টামি করে
গরমে পাঙ্খা আর এসি চলে
শীতের বেলায় দরজা-জানলা খোলে
বাতাসে ভাসতে থাকে রাজনীতি-অর্থনীতি কখনও কখনও সংস্কৃতিও
খোদানীতির ঘরে এইসব শুনতে শুনতে
শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ফেসবুকে করে স্ক্রল
এদিক ওদিক চায়া আস্তে কইরা মারে লাইক
হঠাত বাতাসে ভাসে "কি, বোঝে আসে?"
মোবাইল খান ঢুইকা যায় পকেটে
বোঝে না আসলেও ফেরার পথে বৌয়ের লেইখা দেয়া লিস্ট
সুড়ুত কইরা কিনা নিয়া বাসায় ঢোকে
বোঝে না আসলেও আবার পরের সপ্তাহে জুম্মাতে যায় মধ্যবিত্ত
ওহ, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত
বোঝে না আসলেও, সে নামাজটা পড়ে
বোঝে না আসলেও, খুতবার সময়টা মোবাইলেই থাকে
বোঝে না আসলেও, নোরা ফাতেহির রিলে চোখ আটকায় যায়
বোঝে না আসলেও, হুজুরে যা যা কয় বিশ্বাস কইরা যায়
বড়ভাইয়ের কথাগুলায় কি জানি আসে, সত্যি সত্যি লাগে
বোঝে না আসলেও, হুজুরে যেহেতু কইসের ঠ্যালায় মাইনা নিবার পারে না
বোঝে না আসলেও, চোখের সামনে যখন একদল মানুষ আরেকটা মানুষরে পোড়ায় মারে
তখন আবার মোবাইলটা হাতে উইঠা আসে
এইবার অবশ্য ফেসবুক স্ক্রল করে না,
ফেসবুকে ঢুইকা লাইভ বোতাম চাপে
অথচ জুম্মার বারান্দায় এখনও একদল নেহাত শিশু নিশ্চিন্তে খেলতাসে, দুষ্টামি করতাসে
POETRYফজরের আযানের আগে দিয়া
ঘরের ভিতরে যখন থাকি
দুনিয়া জুইড়া কেমন একটা শো শো শব্দ হয়
লাগে জানি সবকিছু অদ্ভুতভাবে ভাইঙ্গা যাইতাছে
নাকি জোড়া লাগতাছে
কেমন একটা খা খা দেশ
তার চাইতে বেশি খা খা তার রাজনীতি
আর উল্লম্ব যতিচিহ্নের মতো উদাম সব কিছু
পাশে বিলকুল নিষ্পাপ খাড়ায়া থাকে এক ফালি কমলার কোয়া
জাতীয়তা নামে
আমার হুইস্কির গ্লাসে টোকা মারে ধর্ম-রাজনীতির আইস
মুহূর্তে তোলপাড় হয়া যায় ক্রেমলিন থেইকা হোয়াইট হাউস
আমি নিরাভরন হয়া যাই দামাস্কাস থেইকা জেরুজালেম পর্যন্ত
ক্রমাগত শ্বাস নিতে থাকে দামেস্কের হুজুরি
বাগদাদের দাম উঠে নিউইয়র্কের স্টক এক্সচেঞ্জে
উপর্যুপরি ব্যালিস্টিক মিসাইল তাক করা থাকে সৌর-গণতন্ত্রের সর্বাঙ্গে
সেই তাক করা মিসাইল এর ঠিক নিচে রাস্তায় পইড়া থাকা ভাত খায় একদল মানুষ নামের নেড়ি কুকুর
তোমাদের এসপ্রেসো যখন ঠান্ডা হয়ে আসতে থাকে তখন অদ্ভুত একটা গোলাপি আকাশে পিংক মুন উঠে জাতিসংঘের সাজানো সাম্যের গানে
আর সেভেন সিস্টার্স থেইকা আওয়াজ উঠে কোন এক অলিখিত যুদ্ধের
এই সব কিছু ঘটতে ঘটতেই এক সময় আমরা মানুষ থেইকা খুব অন্য কিছু না হইলেও নিদেন পক্ষে মানুষ হইয়া উঠতে পারি না
অথচ এই চেষ্টাটাই কতটা ব্যাকুল আর আকুল আছিলো
শুধু দরকার আছিলো একটা এসওএস পাঠানোর
যার ভেতর লেখা থাকার কথা আছিলো
আমরা যুদ্ধ না শান্তি চাই
আমরা মানুষ না মানুষ চাই
আমরা পৃথিবী না পৃথিবী চাই
আর কিছু না হোক আমরা শুধু আমাদের কথাটুকু উদাম বলতে চাই
STORYআসমান রংয়া শাড়িখান পুরানো জিনিসপত্রের আলমারিতে পাইছিলাম। দাদিজানের শাড়ি হওয়ার কথা। আম্মারে না কইয়াই ঘরে আইনা রাখলাম শাড়িখান। রাইতে একবার তেনারে বলতে চাইয়াও বললাম না। কিছু কইয়া লাভ আছে তারে! তবুও ইচ্ছা করে কই। গল্প করি। অনেক অনেক গল্প। কি আর করুম! আমারে তো আর সইহ্য হয়না তার! কারেই বা সইহ্য করতে পারে! বুকের মইধ্যে নিঃশ্বাস জইমা ভারী হয় আমার। তাড়াইতে পারিনা।
ম্যাঘলা আকাশ দেইখা রাইতটা পার করলাম। ভোরের আলো ফোটার আগেই গিয়া পা ভিজাইলাম পুকুরে। কেমন এক অস্থিরতা! এই বাড়ির মানুষগুলা বুঝবো কোনোদিন? কে জানে! এই নিয়া ভাবলাম না খুব বেশি আর। ফটফটাইয়া নাইমা গেলাম পানিতে। একের পর এক ডুব দিলাম। তারপর দৌড়াইয়া পুরান ঘরে ঢুকলাম। ভেজা গায়েই বইসা রইলাম অনেকক্ষণ। কান্দন আহে আমার। দম বন্ধ লাগে। কি দোষ করছিলাম আমি! এমন একটা মানুষই কেন!
দূরে কোনো এক অচিন পাখি ডাকতাছে গলা ছাইড়া। কষ্ট নাকি ওর খুব, আমার মতন! আসমান রংয়া শাড়িখান কারো অনুমতি ছাড়াই গায়ে জরাইলাম। কি করবো! ডরাইয়া কাম নাই কাউরে। ভিজা চুল দুই হাতে নাড়াইতে নাড়াইতে ঢুকলাম ঘরে। সে তখনও ঘুমের মইধ্যে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। সাজনের জিনিসপত্তর রাখা বাক্সটা বাইর করলাম বহুদিন পর। আমার বড়ই সাজতে মন চায়। চোখে গাঢ় কইরা কাজল আকুঁম, ঠোঁটে চকচইকা রং মাখুম, শক্তপোক্ত খোঁপা কইরা একগাদা বেলীফুল গুজুম চুলে। আর সে! মুচকি হাইসা কপালের মাজখানে একখান টিপ বসাইয়া দিবে। লজ্জায় লাল হইয়া তার বুকের মইধ্যে মুখ লুকামু তহন।
স্বপ্ন! আহারে স্বপ্ন!
ভাবতে ভাবতেই বেখেয়ালে বাক্সটা পইড়া গেলো হাত থিকা। ভয়ে দুই পা পিছাইলাম। মানুষটার ঘুম ভাঙ্গলো বুঝি! বরাবর চাইয়া থাকা আয়নাডার দিকে চোখ আটকাইলো। আসমান রংয়া শাড়ি জরাইন্ন্যা এলোকেশী অষ্টাদশীর চোখে প্রেম নাই, স্বপ্ন নাই। খালি, অস্থিরতা। কেমন ব্যাখ্যাহীন গাঢ় অস্থিরতা!
মানুষটা হরবরাইয়া উইঠা বসলো। আমি পিছাইলাম আরো কিছুটা। সে, একবার… দুইবার এমনে বহুবার পলক ফেইলা তাকাইলো আমার দিকে। নতুন চাহুনী তার। রাগ নাই, ক্ষোভ নাই। কেমন জানি! আমি ভয় পাইলাম না। আজকে আর তারে ভয়ংকর লাগতাছে না কেন জানি। তাকাইয়াই থাকলাম। সে হাত নাড়াইলো। এমন ভঙ্গি! যেনো দূর থিকাই ছুঁইলো আমারে! চোখ পিটপিটাইয়া আবার তাকাইলো। কেমন লজ্জা লাগতাছে আমার!
সে টাইনা টাইনা কইলো “ঘরের ভিত্রে আসমান ঢুকলো কেমনে? আসমান তো দূরে থাকে, এতো কাছে কেন? হাত বাড়াইলেই ধরা যায় এই আসমান। আসমানডা কি আরো কাছে আইবো? মেঘের মইধ্যে ডুব দিতাম!” তার কথা শুইনা আমি পিছাইলাম আরো দুই পা। এই মানুষটারে এতোদিন দেখি নাই আমি। অচিন মানুষ। মানুষটার চোখে আসমান আছে। নীল আছে। প্রেমও। আবার ঘোর! আমার ইচ্ছা করলো দৌড়াইয়া কাছে যাই মানুষটার। দুই হাতে ছুঁইয়া দেখি। এক্ষুনি খুইলা দেই খাটের সাথে তার দুই পায়ে বান্ধা লোহার শিকল…
POETRYইনহেলার লগে থাকোনের ব্যাপারটা
শ্বাসকষ্টের রোগীরে যেমন নিশ্চিন্ত রাখে,
তোমারে রোজ দেখনোর
ওমন একটা নিশ্চিন্ততার দরকার আছিলো!
POETRYপয়সাহীন দরিদ্র রোগীর মতন
অযত্নে ফেলে রাখা ক্ষত
আমাদের ধারণা,
একদিন কর্পূরের মতন সকল ব্যথা উবে যাবে!
POETRYসত্য ও মিথ্যার ছোটাছুটি
চেনা মুখে লাল দাগে কাটাকুটি
রোজ রোজ বদলায় চেনা মুখাবয়ব
খুব বেশি ক্লান্তির এই কলরব
এর চেয়ে ছুটিটা পেয়ে গেলে ঢের
মানুষের ভিড়ে আর আসবো না ফের…
POETRYওরা শরীর থেইকা শরীর ছোঁয় তো রোজই
সাক্ষী থাকে হাড়-চামড়ার হাতটা,
এমন একটা হাত কই পাওয়া যায় ঈশ্বর!
যে শরীর গইলা ছুঁইতে পারে আত্মা?
POETRYরোগাক্রান্ত ক্লান্ত হৃদয়,
অস্বাস্থ্যকর অবিশ্বাস সেবনে
মুমূর্ষুতা জেঁকে ধরেছে!
অনিরাময়যোগ্য যন্ত্রণা ওতে,
ও হৃদয় বয়ে নেয়া শরীর জানালো-
বিরহের মতন গভীর কোনো ক্ষত নেই।
POETRYএমন একাত্মতায় চাইয়াও তারে পাইলাম না!
আলাপে হাসির রোল উঠলো মজলিসে,
বোকার দল জানে না-
শব্দেও যারে ছুঁইতে পারা যায়,
ওমন অন্তরঙ্গতা আর কিসে!
POETRYশৃঙ্গের সেই তীক্ষ্ণতা আজ তোমাদের পায়ের নিচে সয়ে গেছে,
যেমন সয়ে যায় পচা নর্দমার গন্ধ।
তোমরা এখন আর পতনের ভয় করো না,
কারণ পতনের সর্বোচ্চ সীমায় তোমরা পৌঁছে গেছো আগেই।
যেখানে আকাশ ছোঁয়ার কথা ছিল,
সেখানে তোমরা এখন খুঁড়ে চলছো মাটির গভীর আস্তাকুঁড়।
তোমাদের চোখে এখন আর নক্ষত্রের তৃষ্ণা নেই,
আছে কেবল এঁটো ডোবায় ভাগ বসানোর লালসা।
তোমরা ভাবছো তোমরা বেঁচে আছো,
কিন্তু ইতিহাস জানে,
মানুষ যখন নিজের সম্মান চিবিয়ে খায়
তখন তার আয়নায় আর কোনো মানুষের মুখ থাকে না।
হাসুক ওরা, ওই আদিম পালের দল;
তোমাদের এই নতুন রূপ ওদের খুব চেনা।
তোমরা তো আর পথ ভোলা পথিক নও,
তোমরা তো আদি থেকেই এই ভাগাড়ের যোগ্য উত্তরাধিকার।
কারন ওরাতো সেই কবেই বুঝে গিয়েছিলো তোমরা সবাই শুয়োরের বাচ্চা।
POETRY"এলেপোর আর্তনাদ
তুমি কি জানো,
অনেক বছর পুরনো সেই গাছটার, কি হয়েছিল ?
পড়ন্ত বিকেলের আলো ছুঁয়ে যায় ভাঙ্গা দালানের মরা খোলসে,
কেমন মায়া ভরে থাকিয়ে আছে শূন্য নিস্তব্ধ জানালা গুলো,
রাস্তের মোড়ের কুকুর গুলো পালিয়ে গেছে, জীবন বাঁচাতে ।"
কবিতাটি প্রকাশিত হয়ে , ২০২৩ সালে প্রকাশিত "আততায়ী শহর" কাব্যগ্রন্থে।
POETRY
যেদিন তুই বললি তোর মনের মধ্যে আমি আর নাই
সেদিন থেকে রোদের সাথে আপোষ করে নিলাম
আপোষ করে নিলাম বর্ষার দিনে বৃষ্টি ঝড়
ভিজে স্যাঁতস্যাঁত শহর মাঠ আর আমার সেই বিকেল।
আপোষ করে নিলাম চাকরীহীন বেকারত্ব
বাকী পরা মোড়ের দোকানে চায়ের দাম
ক্লান্ত হলেও নির্জীব শরীরের ভার বহন করে চলা
পরিবারের চোখে চোখে অসংখ্য দিক্কারের দিন সন্ধ্যাবেলা।…”
https://youtu.be/yvJ-W_WeoDI
কবিতাটি প্রকাশিত হয়ে , ২০২৩ সালে প্রকাশিত "আততায়ী শহর" কাব্যগ্রন্থে।
প্রকাশক- আজব প্রকাশ।