
Voices That Shape Us
Poetry, stories, and truths from the soul

Poetry, stories, and truths from the soul
© 2025 Thaahor. All rights reserved.
PERCEPTIONসে পাথর পাবার উপায় বাতলেছিলেন ৫ শব্দে!
কী সহজ ভঙ্গিতে লিখেছিলেন-
"একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা করো"।
এরপর আমরা ভালোবাসতে চেষ্টা করলাম।
বুকের ভেতর ওমন কিছু পাথরের প্রয়োজন আমাদের জানা।
খাঁ খাঁ নৈঃশব্দ্যে আমাদের প্রচন্ড ভীতি জন্মেছে।
আমরা চাই বাড়তি দুটো শব্দ না হোক,
কিছু প্রতিধ্বনিই ফিরে আসুক।
ওরা, আমরা; ভালোবাসতে চেষ্টা করলাম তাই।
কেউ কেউ দেখা পেলো কবির প্রলোভন জাগানো সে নদী, মাছ, মাছের বুক থেকে ঝরে পড়া পাথর ও নদী-সমুদ্র জলের।
ওরা সে পাথরের পাল বিছিয়ে দেখেও এলো বহুদূর হেমন্তের পাঁশুটেনক্ষত্রের দরোজা পর্যন্ত।
কিছু হতভাগা চেষ্টা করে গেলো!
ওদের দলে রইলাম আমি, আমরা, ও অনেকে....
চেষ্টা চললো।
একবার, দু'বার, বারংবার!
ওদিকে রূপোলী মাছ পাথর ঝরাতে ঝরাতে চলে গেলো।
আমাদের আর ভালোবাসা হলো না,
বুকের ভেতর জড়ো হলো না কিছু মহামূল্যবান পাথর!
আমরা নৈঃশব্দ্য আর প্রগাঢ় শূন্যতা নিয়ে বসে থাকলাম কেবল।
আমাদের বুকের ভেতর পড়ে থাকলো একটি জরাজীর্ণ পরিত্যাক্ত শ্মশান...
ছবিঃ সুরাইয়া হেনা
POETRYসে আমারে আমার মতোন ভালোবাসতে পারে না,
আমার চোখের দিকে তাকাইতে পারে না,
হাত ধরতে পারে না,
স্থির হইয়া দেখতে পারে না দুইদণ্ড!
আমার মতোন চিৎকার কইরা, নির্দ্বিধায় "ভালোবাসি" বলতে পারোনের সাহস তার নাই…
আমি যখন কই "আপনারে পাশে চাই",
পোষমানা টিয়ার মতোন চুপচাপ আইসা বসে পাশে
"আপনার সাথে একটা সিগারেট হইতে পারে?"
প্রশ্নখানের উত্তর দেয় না সে,
চুপচাপ সিগারেট জ্বালাইয়া ধরে ঠোঁটের ফাঁকে,
আমি মুচকি হাসি।
"হাত ধরি?" কইলেই চুপচাপ বাড়াইয়া দেয় হাতখানা,
কাঁধে মাথা রাইখা মানুষটারে আষ্টাইয়াপৃষ্টাইয়া বইসা থাকি,
একটা ওজনহীন চুমু সযত্নে আইসা নামে আমার কপালের উপর
ভীত না, কাঁপা না, সংকোচের লেশমাত্র থাকে না ওইখানে।
আমি আরো একটু শক্ত কইরা আঁকড়াইয়া নেই তারে,
সে বইসা থাকে, সঙ্গ দেয়, নিজের সমস্তটা সমর্পণ কইরা রাখে আমার হাতে…
তার ধারণা দুনিয়ার সক্কল শ্রেষ্ঠ-সেরাটা আমার প্রাপ্য,
তার ডর, সে আমারে কিছুই দিতে পারবো না,
ওইদিকে তার চোখ জুইড়া নাইমা আসা স্বচ্ছ প্রেম আমার দৃষ্টিগোচর হয় না,
তার না কইতে পারার, প্রকাশ না করতে পারার জংধরা অভ্যাস
তার প্রাচীন, অবাধ্য, অনস্বীকার্য ব্যস্ততা
সবটা থিকাও আমি জাইনা-শুইনা নিতে পারি বহুকিছু…
তার ভয় মাখাইন্যা আড়চোখের চাহনী, তার চোখ খইসা ঝইড়া পড়া মুগ্ধতা; কিছুই আড়াল হয় না আমার দৃষ্টি সইরা
আমি দেখতে পারি তার ক্ষুদ্র থিকা ক্ষুদ্রতর বিস্তারিত!
সে আমারে আমার মতোন ভালোবাসতে পারে না,
কারণ সে আমি না, আলাদা আরেক স্বত্বা!
তার ভালোবাসোনের ধরণ স্বতন্ত্র,
সে আমারে তার নিজের মতোন কইরা ভালোবাসে।
আমার চোখের দিকে তাকাইতে পারে না সে,
তার চোখ জুইড়া নাইমা আসে আকাঙ্ক্ষা, তাতে ভাইসা ওঠে-
"পৃথিবীর সমস্ত সুখ এই মাইয়ার প্রাপ্য, আমি তো কিছুই দিতে পারুম না"মূলক ভীতি।
নিজ থিকা হাত ধরতে পারে না সে,
ধইরা না রাখতে পারার সুক্ষ্ম-তীক্ষ্ম একটা ডর তারে আচ্ছন্ন করে।
আমারে স্থির হইয়া দেখতে পারে না সে দুইদণ্ড!!
আরো অনেকটা ভালোবাইসা ফেলানোর আশংকা তারে জাইকা ধরে।
আমার মতোন চিৎকার কইরা,
নির্দ্বিধায় "ভালোবাসি" বলতে পারার সাহস তার নাই,
কারণ সে নিজের মইধ্যে গুটায়া থাকা মানুষ
সে নৈঃশব্দ্যে, সযত্নে, নিজের মইধ্যে ভালোবাইসা অভ্যস্ত মানুষ
ওই ভালোবাসা স্পর্শকাতর, গভীর, গাঢ়
যার তল ছোঁয়নের স্পর্ধা এখনও এই সাহসী মাইয়াটার হয় নাই!
ছবিঃ সুরাইয়া হেনা (Pen on paper)
POETRYএকটা কবিতা লিখতে গিয়ে-
আমাকে ফিরতে হয় এক ভোরের কাছে
একমুঠ ফিনফিনে বাতাসের কাছে
মনোযোগ দিতে হয় অগণিত টিয়া-ঘুঘুর ডাকে
একটা বাদাম গাছে ঝুলে থাকা বেদনার রঙ, ধূসর বিষন্নতায়।
যখন সময়ের আঁচল থেকে আড়মোড়া ভেঙ্গে জাগতে চায় একটা সকাল,
হয়তো মা তখনও নামাজের পাটিতে, আঙ্গুল তার তসবির দানায়
বাবার নাকডাকার শব্দে মানিয়ে নিয়েছে দেয়ালের কান
নাশতার থালা ঝিমোচ্ছে, মেন্যু জানবার তাগাদা নেই তার
বাসি খাবারে জমে বসেছে উটকো গন্ধের মেহফিল!
আমি তখন বাড়ি থেকে দূরে, একটা উষ্ণ চুমুর মুখোমুখি
সন্নিকটে ঝুলছে দুর্বল ও উপেক্ষিত, রোগা-ক্লান্ত সতর্কবাণী
একজোড়া চোখের সমুদ্রে দেখে নিচ্ছি, নিজের সর্বনাশ!
সময়ের ব্যারিকেড ডিঙ্গিয়ে আমাকে ফিরতে হয় সেখানে,
যেখানে আহত হৃদয়ে জন্মেছিলো একটি পর্তুলিকার চারা
পুরাতন অনলশিখায় নেমেছিলো স্বস্তির নিষ্প্রভতা
দহনকালের সমাপ্তি টেনে এসেছিলো নূতন ব্যথাকে স্বাগত জানাবার সুযোগ…
একটা কবিতা লিখতে গিয়ে-
আমাকে প্রেমিকার পদ রেখে হতে হয় অ্যাকাউন্ট্যান্ট,
ফর্দ নিয়ে বসতে হয় গভীর হিসেবে!
এরপর, গণিতের মারপ্যাঁচ ছাপিয়ে যে দুটো শব্দ বাঁচে
ওদের তুলে রাখতে হয় হতদরিদ্রের শেষ সম্বলের মতো,
ফিরতে হয় খালি হাতে...
শুরু করতে হয় আবার কোনো নতুন ওয়াক্তে,
একটা সম্ভাব্য দিনের সূচনালগ্নে,
কিংবা তারও আগে
মা যখন হয়তো নামাজের পাটিতে,
আঙ্গুল তার তসবির দানায়
বাবার নাক ডাকার শব্দে মানিয়ে নিয়েছে দেয়ালের কান
নাশতার থালা ঝিমোচ্ছে যখন,
বাসি খাবারে জমেছে উটকো গন্ধের মেহফিল!
যে উটকো গন্ধের মতো বিতাড়িত করতে হয় কবিতা লেখার ভাবনা,
বাসি খাবারের সাথে ডাস্টবিনে ফেলে আসতে হয় ছেঁড়া পাতা
যার গর্ভে বেড়ে ওঠার কথা ছিলো একটা কবিতার ভ্রূণ....
ছবিঃ সুরাইয়া হেনা (Pen on paper)
POETRYআমার জীবন শিকড় থেকেই আক্রান্ত,
ভেতরটা নড়ে ওঠে ভূমিকম্পের শব্দে।
আমার দেহ পুড়তে থাকে আগ্নেয়গিরির মতন,
নিঃশ্বাসে ওঠে ধোঁয়া, চোখে রক্তিম ছায়া।
শুষ্ক, কঠিন হৃদয় ধীরে ধীরে গলে যায়,
লাভায় তপ্ত পাথরের মতো।
ভালোবাসা কিংবা ঘৃণা নয়,
এ এক নিদারুণ যন্ত্রণার রূপান্তর।
এই জীবনে আর কোনো মানে খুঁজে পাই না,
না আছে কিছু পাওয়ার, না হারানোর।
এখন শুধু মনে হয়
এক শ্বেতশুভ্র বসন গায়ে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকি
কোনো ব্যস্ত রাস্তায়,
অথবা কোনো সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায়।
ঝড়ের মতো ঠান্ডা বাতাস
আমাকে ছুঁয়ে দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে যাক একটা কোথাও,
যেখান থেকে আর ফিরতে হয় না কারোর।
হয়তো কোনো খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে
শেষবারের মতো নিজের ছায়াটাকেও বিদায় জানাবো;
যে ছায়াটাও আজকাল আমায় অনুসরণ করতে ক্লান্ত।
তারপর?
এক নিঃশব্দ পতনে মিলিয়ে যাবে
এই দগ্ধ শরীর, এই ব্যথার মহাকাব্য,
আর পৃথিবী খুব স্বাভাবিক ভাবেই
আমাকে ভুলে যাবে,
যেন আমি কখনোই কোত্থাও ছিলাম না।
POETRYআমার মৃত্যুতে তোমার বাগানে ফুটে উঠবে একটি ফুল,
একটি গোলাপ।
কিন্তু সে কোনো সাধারণ গোলাপ নয়,
সে ইরানের লুপ্ত মরুভূমির উত্তাপে জন্ম নেওয়া
তপ্ত, বিবর্ণ মরুর গোলাপ।
যাকে তোমরা অ্যাডেনিয়াম বলে ডাকো।
আমার মৃত্যুতে
তোমার বাগানে ফুটবে সেই মরুর গোলাপ।
তুমি সৌন্দর্যে আকুল হবে,
গন্ধে হবে মুগ্ধ।
আর আমি?
শুধু আমি জানবো_
এই গোলাপকে ফোটাতে
কীভাবে পুড়েছিল আমার শরীর।
কীভাবে দগ্ধ হয়েছিলাম আমি ও
আমার সাথীরা।
এই ছোট্ট, নরম, কোমল শরীর
কীভাবে আগুনের হলকায় গলে গিয়েছিল।
তারপর আমি হয়ে উঠলাম এক জ্বলন্ত সৌন্দর্য,
তোমাদের প্রিয়,
মরুর গোলাপ।