
Voices That Shape Us
Poetry, stories, and truths from the soul

Poetry, stories, and truths from the soul
© 2025 Thaahor. All rights reserved.
POETRYহাঁটু গাইড়া বইসা পুষ্পখান হাতে দেও নাই,
অর্পণ করছিলা পায়ে
কেমন ঘোরগ্রস্ত চাহনি নিয়া কইছিলা, "মানুষ না তুমি"
প্রেয়সী না ডাইকা, ডাকছিলা দেবী!
সুউচ্চ বেদি দিছিলা তোমার জীবনে
গভীর আরাধনায় বিলায়ে দিছিলা স্বল্প সময়ে নিজের সবটা।
এরপর অবেলায় দেবী বিসর্জন দিয়া
ঘর বাঁধলা ওই এক নশ্বর মানবীর লগেই!
অথচ ওমন নশ্বর মানবীই আছিলো
ওমন নশ্বর মানবীই থাকতে চাইছিলো তোমার নামকরণে হওয়া নব দেবী।
বেদির বদলে চাইছিলো,
চাইর হাতে সাজাইয়া-সামলাইয়া রাখা একটা ছোট্ট ঘর।
একপাক্ষিক আরাধনা গ্রহণ করার বদলে
সেও হাত পাইতা আবদার করছিলো এক মুঠ সাধারণ প্রেম, ভালোবাসা...
তুষ্টি-অতুষ্টির পাট ফেলায়া তুমি চইলা যাইতেই
তোমার বোনা ইলিউশনে ভুগলো সেও
ভেতর মইরা গেলেও
যমদূতের সাধারণ প্রক্রিয়া দেবীরে ছুঁইলো না।
শক্ত মাটি থুবড়াইড়া পইড়া ভাঙ্গার মতোন ভাইঙ্গা গেলো সে,
গুঁড়া হইলো,
কাদামাটি হইলো,
তার অবশিষ্ট ক্ষুদ্র নিজস্বতাও মিশ্যা গেলো বৃষ্টির জলে।
ওইদিকে একটা অপঘাতী মৃত্যুর খবর জানলো না পৃথিবীলোক...
POETRYমন্থরে ধুলো জমে স্মৃতিতে
ঘোলা হয় পুরাতন প্রার্থনা-প্রেম,
ভুলে যাই জমা-ব্যয় গণনা
কে কার গল্পে ঠিক কতটা ছিলেম...
POETRYপ্রাচীন-শুকনো ক্ষত খুটে খায় বুনো শালিক
হাসনাহেনার গুমোট গন্ধে নেশাতুর হয় একপেয়ে ল্যাম্পপোস্ট
হলদেটে আলোর নিচে ডানা ঝাপটানো ঝিঁঝিঁর ঝাঁক ডাক ভোলে,
নাকি ওদেরও ভোগায় শহুরে 'আইডেন্টিটি ক্রাইসিস'?
ছুটে যাওয়া রিকশায় প্যাডেল চালানো শরীর ওসব হিসেব কষে না
তার কেবল বাড়ি ফিরবার তাড়া
তাগাদায় দু'মুঠো ভাত, কাম ও একফালি শ্রান্ত ঘুম।
হিসেব কষে না মেয়েটিও!
সে হেঁটে চলে তার স্বীয়-চেনা গতীতে
চক্রাকার ওই পথের প্রত্যেক বৃক্ষ ছোঁয়
যেখানে কেটেছে গত হওয়া শরৎ-হেমন্ত/শীত-বসন্ত
পরিচিত কৃষ্ণচূড়া, রাঁধাচূড়া, জারুল, চন্দ্রপ্রভা, কাঠমালতি, সোনালু, ছাতিম, কাঠগোলাপ, নাগচাপা ও অন্যান্যদের-
ছুঁয়ে ছুঁয়ে আঙ্গুলের ডগায় তুলে আনে প্রাক্তন প্রেম
ওসব পাঁপড়িতে, পাতায়, ছায়ায়, শেঁকড়ে, গন্ধে
মিশে আছে তার রঙীন, সরল ভালোবাসাবাসি,
তার গাঢ়, গভীর বিচ্ছেদ-বিরহ!
সময়ের ভাঁজে জমাট ক্ষত শুকোয়, তবুও মিলায় না
ওসব ক্ষতে এসে জড়ো হয় অভ্যস্ততার বুনো শালিক
প্রাচীন-শুকনো ক্ষত খুটে খায় সেসব বুনো শালিকের দল
হাসনাহেনার গুমোট গন্ধে নেশাতুর হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে একপেয়ে ল্যাম্পপোস্ট!
মেয়েটিও দাঁড়িয়ে থাকে প্রাচীন মৃত প্রেমের এপিটাফ ঘিরে
তার আর ভালোবাসা হয় না,
তার আর বাড়ি ফেরা হয় না,
তার আর কোথাও যাবার নেই...
POETRYঅভাগার দুনিয়ায় একটা মানুষ পাইয়া ভাবলো,
"সকল দুঃখ বলি তারে, হইবো পরিত্রাণ"
অথচ দুঃখ না, ওই মানুষ চিনলো আঘাত করার
সবচেয়ে দুর্বল ও উপযুক্ত স্থান...
POETRYকেউ কেউ,
এক সমুদ্র ভালোবাসা এনে রাখে পায়ের কাছে
তীরবর্তী এলাকায় আয়োজন করে ভুঁড়িভোজের,
রূপোর থালায় সযত্নে পরিবেশন করে একটা গোটা পৃথিবী!
ওমন সযত্নে সাজানো জিন্দেগী আমাদের টানে না!
কারো সাধনার মুকুট, প্রাসাদ, সমুদ্র, পৃথিবী- প্রত্যাখ্যান করি আমরা।
সবটা ডিঙ্গিয়ে আস্ত হৃদয় বাড়িয়ে দাঁড়াই এক ভাঙ্গা দাওয়ায়
বিনিময় নয়, প্রত্যাখিত হই
সকল রাজকীয় জৌলুশ ফিঁকে হয় ওখানে
ওই অপ্রত্যাশিত জরাজীর্ণ উঠোনে
আমাদের কেমন ভিখিরি লাগে!
STORYছয় শব্দের ছোট্ট একটা প্রশ্ন জিগাইতে গলা কাঁপলো আমার। যেন গলার গহীনে ঘূর্নি পাকাইয়া ছোট্ট একখান ঝড় উঠছিলো। আমি সামলানোর চেষ্টা করলাম। চোখের মইধ্যে জাইগা ওঠা পুকুরখান শান্তই আছিলো। আমি জানি চাইলেও আমি কানতে পারুম না। আমার খালি গলার কাছে জটলা পাকাইয়া বুক ভারী হইয়া যায়। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তবুও আমি কানতে পারি না। চোখ ঘোলা কইরা ফালানো টলটলে জল টুক কইরা নাইমা আসে না শুধু...
আমার প্রশ্নের উত্তর সে দিলো না।
এইযে এতো ভালোবাইসা দুইটা মানুষ একটা বাসা বাঁধতে পারে না, লোক দেখাইয়া দুইটা হাত মুঠায় নিয়া ঘুরতে পারে না, একলগে বৃষ্টিতে ভিজতে পারে না, জ্বর বাঁধাইয়া দেখাশুনায় পাশাপাশি কাটাইতে পারে না, দুই কাপ রং চা নিয়া আলাপ দিতে দিতে সন্ধ্যা মিলাইতে পারে না, রাইত বিরাইতে একটা ছোট্ট স্ক্রিন ভাগাভাগি কইরা একটা সিনেমা দেখতে পারে না, মাঝরাইতে বারান্দায় দাঁড়াইয়া একটা সিগারেট ধরাইতে পারে না, ঝগড়া কইরা-গাল ফুলাইয়া দুইবেলা একলগে খাওয়া বন্ধ করতে পারে না, ছাইড়া আসার হুমকি দিতে পারে না, ক্লান্তি নিয়া একজন আরেকজনরে জড়াইয়া ধইরা শান্তির একটা ঘুম দিতে পারে না, সকালে দুইটা প্রিয় মুখ দেখাদেখি কইরা দিন শুরু করতে পারে না- ও আরো অন্যান্য......
এতোসব না পারাগুলা দুঃখ হইয়া সুঁচ ফুটায় না কন? কষ্ট হয় না তখন?
আমার তো হয়, ম্যালা ম্যালা কষ্ট হয়।
এই মানুষটা কয় না কেন? আমি তো ভাবি না 'ব্যাটা মাইনষের মন খারাপ হয় না/ব্যাটা মাইনষের কষ্ট হয় না'। সে তো তা জানে। আমার কাছে তাইলে লজ্জা কিয়ের? নাকি তার আসলে দুঃখই হয় না আমার মতোন!!
আমি ভাবলাম মানুষটা তো নিজেরই। আগের এক প্রশ্নের উত্তর দেয় নাই, তো কী হইছে? মনে চাইপা না রাইখা আরেক প্রশ্ন জিগাইয়া ফেললাম। আবারও হালকা গলায় কইলাম "আচ্ছা, তোমার কি দুঃখ হয় না? আমারে যে পাইলা না, তোমার কি একটুও দুঃখ হয় না?"
আবারও একইরকম গলা কাঁপল আমার। আমিও কাঁপলাম দুঃখের তোড়ে। শুধু টলটল করা চোখ দুইটা বাইয়া একফোঁটা জল নামলো না। কারণ, ম্যালা কষ্ট হইলেও আমি কানতে পারি না।
সে আমার হাত দুইটা টাইনা তার হাতের উপর রাখলো। চোখ জোড়া নামাইয়া আনলো আমার চোখ বরাবর। তার চোখ লাল। কিন্তু ম্যালা শান্ত। কেমন বিহ্বল লাগলো তারে! আমি জড়বস্তুর মতোন স্থির হইয়া গেলাম।
সে কইলো "এইযে নিজেরে খুব বুনোফুল কইয়া বেড়াও, আমার কাছে তোমারে কী লাগে জানো? পাতা, একটা হলুদ পাতা। এই পাতার উপর ঈশ্বর আলপনা কইরা দিছেন সমস্ত প্রকৃতি। সৃষ্টি, ধ্বংস, স্নিগ্ধতা, ক্ষিপ্ততা, রং- সব পাই এইখানে। আমি পাতাখান যত্নে আগলাইয়া রাখলাম বুকের মইধ্যে। খেয়াল কইরা দেখলাম তোমার পরে আমার আর ভালোবাসা হইলো না। তোমারে পাইলাম কী পাইলাম না, সেই হিসাবও আর করতে পারি না। আমি খালি জানি, তোমার পর আমারে আর কেউ পাইলো না। আমি আর মেঘের মইধ্যে মেঘ হই না। ঘাসের মইধ্যে ঘাস হই না। আমি একটা দাঁড়কাক হইয়া একটা জমিতে স্থির হইয়া গেলাম। আমি যত্নে সরাইয়া রাখলাম না পূরণ হওয়া ব্যাবাক আশ, এখন খালি আমার বুকের মইধ্যে একটা হলুদ পাতার দীর্ঘশ্বাস.... "
সে পত্তেকবারই এমন সুন্দর কইরা কথা কয়। হুদাই কী আর মানুষটার প্রেমে পড়ছি!! এইগুলা লোক ভুলানো মিষ্টি কথা না। আমি জানি মিথ্যা বলে নাই সে। আমি জানি আমারে ম্যালা ভালোবাসে সে। আমি জানি আমার জন্য ম্যালা কষ্ট হয় তার।
তার বলার মইধ্যে শুধু শুনলাম না তারে। চাইয়া থাইকা দেখলাম তার কাঁইপ্যা ওঠা ঠোঁট। ঠিকরাইয়া নাইমা আসা চোখের জল। ফুইলা ফুইলা ওঠা লাল নাক। একটা মানুষ কানলেও কেন তারে এমন অপার্থিব সুন্দর লাগতে হইবো! আমি মনে মনে প্রমাদ গুনলাম। সামলাইলাম নিজেরে। আমি তো কানতে পারি না। খেয়াল করলাম একফোঁটা উষ্ণ জল কোত্থেইকা নাইমা আসছে ঠোঁটের কাছে। জলের স্বাদটা নোনতা। সেইদিকে বেশি মনোযোগ দিলাম না আমি। তার হাত দুইটা শক্ত কইরা ধইরা কইলাম "সন্ধ্যা মিলাইতে এখনও ম্যালা বাকি, তুমি আমার পাশে বন্ধু, একটু বসিয়া থাকো......"
POETRYনিদারুণ উপেক্ষায় কেটে যাচ্ছে বিনিদ্র রজনী।
দিনে অবশ্য অতোটা সমস্যা হয় না।
এখন তো দিন ছোট হয়ে আসছে
রাত গ্রাস করে নিচ্ছে রোদ!
কুয়াশায় ভিজছে সবুজ!!!
আমার অপেক্ষমান হৃদে জমে যাচ্ছে কানাইলতার ঝাড়-
অথচ, থেমে নেই;
পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উপেক্ষা তোমার।
ও গো হরীৎ, ও গো সবুজ ননাই মোর-
দোদুল্যমান শৈত্য সরণীতে তোমারও কি নিদান ফাগুন যাপন!!!
কেমন আছে হরীৎ-
কেমন আছে চুল!
কেমন আছে তিল-
আর, কেমন হাসছে আঙুল!
কেমন আছো তুমি, ডালিমকুমারী?
ভালো নিশ্চয়!
কিংবা হয়তো অতোটাও নয়!
পৌষ কি রাখে সবুজের খবর-
মাঘ কি চেনে ডালিমের রঙ?
থাক, বাদ দিই-
আমার কি আর সাজে অতো শখ!
তবু, চেয়ে দেখো ফাল্গুনী, খুন হয়ে গেছে রোদ-
হীরণ্যক্ষ নিয়েছে নাইসিয়ার বুনো সোনালী নার্গিসের প্রতিশোধ।
আর তাই, অগ্রাণী সন্ধ্যা নামে বারান্দায়
দূর আজানের সুরে মেশে মন্দিরের ঢাক।
কারা দেয় উলু-
কারা বাজায় সমুদ্র শাঁখ, করতাল!
আগাম ঝরা পাতা পোড়া শীতঘ্রাণে মেশে ধূপ!
আসে আদিম উপেক্ষা ভরা তুমিহীন গাঢ় কালো রাত;
আর কি সয় বাসন্তী?
নার্গিস চিনি না মেয়ে-
শুধু টের পাই আমার ফুসফুসে রোজ গজিয়ে উঠছে ক্যাকটাস!
টের পাই কাঁটা তার।
আমার বুঝি বাকি নেই খুব বেশি শীত!
এই মাঘ পেরোলেই ছয়!
তারপর, চলে যেতে হয়...
তবু, প্রশ্ন, থেকে যায়!
তবু, প্রশ্ন, রেখে যেতে হয়!
"কেন?"
উত্তর হাওয়া ঘূর্ণি তোলে বারান্দায়।
"কেন নয়?"
৭ ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২
চট্টশরী
POETRYআমাকে ভালোবাসতে গিয়ে,
নিজেকে পরিপক্ব কারিগরের মতোন নিপুণ হাতে ভেঙ্গেছে সে
গড়েছে একই নিখুঁত দক্ষতায়!
মনোযোগী শ্রোতা ছিলো আগেও,
কথাদের সাথে প্রাচীন কলহ মিটিয়ে শিখেছে বলতে,
নিজের নির্লিপ্ততা চাপা দিয়েছে এক মুঠো স্নিগ্ধ চন্দ্রমল্লিকায়...
আমাকে ভালোবাসতে গিয়ে,
নিজের ধূসর পৃথিবীকে করেছে ক্যানভাস
আমি শিল্পী হওয়ার নম্র-উগ্র বিরতিহীন প্রচেষ্টায় তাতে রঙ ছড়িয়েছি দিনের পর দিন!
সে নির্ভেজাল অনুরাগীর মতো প্রতিবেলা মুগ্ধতা নিয়ে দেখেছে, দেখছে
থেকেছে, থাকছে-
আমার অশান্ত-উত্তাল স্বভাবে প্রকৃতির শান্ত শান্তি নিয়ে
সকল বিপদ সংকেতে টিকেছে নিঃশব্দ সতর্কতায়
টিকিয়ে রেখেছে আমাকেও, নিজের ভাঙনেই...
আমাকে ভালোবাসতে গিয়ে,
নিজের গণ্ডির সকল রেখা মুছেছে অতল মনোযোগে
লাল দাগে কেটেছে নিজের সকল কঠোর নিয়মাবলী
জ্বালিয়েছে প্রচলিত, তথাকথিত জাগতিক রীতির ফর্দ
সকল শৃঙ্খল, সীমাবদ্ধতা চিঁড়ে নেমে এসেছে একটা বিস্তৃত খোলা মাঠে
নরম পায়ে হেঁটেছে আমার পাশে পাশে, হাঁটছে
হাঁটতে হাঁটতে আমরা পেরিয়ে এসেছি সিন্ধু বা মেসোপটেমিয়ার সূচনা
আবিষ্কার করেছি পৃথিবীর আদিমতম ধর্ম, প্রাচীনতম ভাষা, শ্বাশততার নিরব সত্য; প্রেম...
ছবিঃ সুরাইয়া হেনা
POETRYধরো,
একটা ছুটির দিন!
থালায় প্রস্তুত আছিলো পছন্দের সব পদ
এইযেমন- দুই চামচ গরম ভাত, উপরে ছড়াইয়া দেয়া খাঁটি ঘি, পোড়া মরিচের ভর্তা, দুইটা পটল ভাজি, ফোঁড়ন দেয়া পাঁচমিশালি সবজি, চিংড়ির মালাইকারি, ঝাল ঝাল মাংস ভুনা, পাতলা ডাল, রসুনের আচার!
শেষে একটা তুলতুলা কালোজাম....
ওমন আয়েশী মধ্যাহ্নভোজের পর যেই অবশ্যম্ভাবী কোমল ঘুমটা পায়, ওমন কইরা তোমার ভাবনাও আমারে পাইয়া যায়, তুমিও পাইয়া যাও আমারে, পাইয়া যায় তোমার প্রেম!
দেখো, ব্যাপারটা আমার কাছে এতোটাই সরল!
সরল, তোমারে না পাওয়াও!
আমি এইখানে নিজেরে ভাইবা নিছি ব্যস্ত দফতরের নিম্নপদস্থ কর্মচারী
যার বিরাম নাই, ছুটির দিনেও যার ওভারটাইম গোণা লাগে
তৃপ্তির ঢেকুর তুইলা একটা ঘুম দিতে পারা যার জন্য ব্যাপক বিলাসিতা!
তোমারে আমি একটা 'এভ্রিম্যান' ব্যালেন্সড ভদ্রলোকের রুটিনের মতোন মেইনটেইন কইরা যাইতে থাকি,
নিয়ম কইরা একইভাবে ভালোবাইসা যাইতে থাকি,
'সকালে ঘুম থিকা উঠুম, রাতে ঘুমাইতে যামু'- ওমন সাধারণ ব্যাপারস্যাপারের মতোন!
"তুমি আমার অক্সিজেন/তোমারে ছাড়া বাঁচুম না" এইসব শাব্দিক বাড়াবাড়ি আমি পারি না,
ভয়ানক মিথ্যাও বলা হইবো ওতে
ওতো জটিল কইরা ভাবোনের কিছুই নাই আসলে!
কইলামই, তুমি আমার কাছে খুবই সহজ,
দুপুরের কোমল ভাত ঘুমটার মতোন-
বিলাসী, মহামূল্যবান
যা, না হইলেও চইলা যায়
তবুও, মন/মস্তিষ্ক/শরীর সর্বস্বটুকুর কাছেই যা বহু আকাঙ্ক্ষিত,
রোজ রোজই পাইতে চাওয়ার মতোন সরল একটা ব্যাপার...
ছবিঃ সুরাইয়া হেনা
PERCEPTIONসে পাথর পাবার উপায় বাতলেছিলেন ৫ শব্দে!
কী সহজ ভঙ্গিতে লিখেছিলেন-
"একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা করো"।
এরপর আমরা ভালোবাসতে চেষ্টা করলাম।
বুকের ভেতর ওমন কিছু পাথরের প্রয়োজন আমাদের জানা।
খাঁ খাঁ নৈঃশব্দ্যে আমাদের প্রচন্ড ভীতি জন্মেছে।
আমরা চাই বাড়তি দুটো শব্দ না হোক,
কিছু প্রতিধ্বনিই ফিরে আসুক।
ওরা, আমরা; ভালোবাসতে চেষ্টা করলাম তাই।
কেউ কেউ দেখা পেলো কবির প্রলোভন জাগানো সে নদী, মাছ, মাছের বুক থেকে ঝরে পড়া পাথর ও নদী-সমুদ্র জলের।
ওরা সে পাথরের পাল বিছিয়ে দেখেও এলো বহুদূর হেমন্তের পাঁশুটেনক্ষত্রের দরোজা পর্যন্ত।
কিছু হতভাগা চেষ্টা করে গেলো!
ওদের দলে রইলাম আমি, আমরা, ও অনেকে....
চেষ্টা চললো।
একবার, দু'বার, বারংবার!
ওদিকে রূপোলী মাছ পাথর ঝরাতে ঝরাতে চলে গেলো।
আমাদের আর ভালোবাসা হলো না,
বুকের ভেতর জড়ো হলো না কিছু মহামূল্যবান পাথর!
আমরা নৈঃশব্দ্য আর প্রগাঢ় শূন্যতা নিয়ে বসে থাকলাম কেবল।
আমাদের বুকের ভেতর পড়ে থাকলো একটি জরাজীর্ণ পরিত্যাক্ত শ্মশান...
ছবিঃ সুরাইয়া হেনা
POETRYসে আমারে আমার মতোন ভালোবাসতে পারে না,
আমার চোখের দিকে তাকাইতে পারে না,
হাত ধরতে পারে না,
স্থির হইয়া দেখতে পারে না দুইদণ্ড!
আমার মতোন চিৎকার কইরা, নির্দ্বিধায় "ভালোবাসি" বলতে পারোনের সাহস তার নাই…
আমি যখন কই "আপনারে পাশে চাই",
পোষমানা টিয়ার মতোন চুপচাপ আইসা বসে পাশে
"আপনার সাথে একটা সিগারেট হইতে পারে?"
প্রশ্নখানের উত্তর দেয় না সে,
চুপচাপ সিগারেট জ্বালাইয়া ধরে ঠোঁটের ফাঁকে,
আমি মুচকি হাসি।
"হাত ধরি?" কইলেই চুপচাপ বাড়াইয়া দেয় হাতখানা,
কাঁধে মাথা রাইখা মানুষটারে আষ্টাইয়াপৃষ্টাইয়া বইসা থাকি,
একটা ওজনহীন চুমু সযত্নে আইসা নামে আমার কপালের উপর
ভীত না, কাঁপা না, সংকোচের লেশমাত্র থাকে না ওইখানে।
আমি আরো একটু শক্ত কইরা আঁকড়াইয়া নেই তারে,
সে বইসা থাকে, সঙ্গ দেয়, নিজের সমস্তটা সমর্পণ কইরা রাখে আমার হাতে…
তার ধারণা দুনিয়ার সক্কল শ্রেষ্ঠ-সেরাটা আমার প্রাপ্য,
তার ডর, সে আমারে কিছুই দিতে পারবো না,
ওইদিকে তার চোখ জুইড়া নাইমা আসা স্বচ্ছ প্রেম আমার দৃষ্টিগোচর হয় না,
তার না কইতে পারার, প্রকাশ না করতে পারার জংধরা অভ্যাস
তার প্রাচীন, অবাধ্য, অনস্বীকার্য ব্যস্ততা
সবটা থিকাও আমি জাইনা-শুইনা নিতে পারি বহুকিছু…
তার ভয় মাখাইন্যা আড়চোখের চাহনী, তার চোখ খইসা ঝইড়া পড়া মুগ্ধতা; কিছুই আড়াল হয় না আমার দৃষ্টি সইরা
আমি দেখতে পারি তার ক্ষুদ্র থিকা ক্ষুদ্রতর বিস্তারিত!
সে আমারে আমার মতোন ভালোবাসতে পারে না,
কারণ সে আমি না, আলাদা আরেক স্বত্বা!
তার ভালোবাসোনের ধরণ স্বতন্ত্র,
সে আমারে তার নিজের মতোন কইরা ভালোবাসে।
আমার চোখের দিকে তাকাইতে পারে না সে,
তার চোখ জুইড়া নাইমা আসে আকাঙ্ক্ষা, তাতে ভাইসা ওঠে-
"পৃথিবীর সমস্ত সুখ এই মাইয়ার প্রাপ্য, আমি তো কিছুই দিতে পারুম না"মূলক ভীতি।
নিজ থিকা হাত ধরতে পারে না সে,
ধইরা না রাখতে পারার সুক্ষ্ম-তীক্ষ্ম একটা ডর তারে আচ্ছন্ন করে।
আমারে স্থির হইয়া দেখতে পারে না সে দুইদণ্ড!!
আরো অনেকটা ভালোবাইসা ফেলানোর আশংকা তারে জাইকা ধরে।
আমার মতোন চিৎকার কইরা,
নির্দ্বিধায় "ভালোবাসি" বলতে পারার সাহস তার নাই,
কারণ সে নিজের মইধ্যে গুটায়া থাকা মানুষ
সে নৈঃশব্দ্যে, সযত্নে, নিজের মইধ্যে ভালোবাইসা অভ্যস্ত মানুষ
ওই ভালোবাসা স্পর্শকাতর, গভীর, গাঢ়
যার তল ছোঁয়নের স্পর্ধা এখনও এই সাহসী মাইয়াটার হয় নাই!
ছবিঃ সুরাইয়া হেনা (Pen on paper)
POETRYএকটা কবিতা লিখতে গিয়ে-
আমাকে ফিরতে হয় এক ভোরের কাছে
একমুঠ ফিনফিনে বাতাসের কাছে
মনোযোগ দিতে হয় অগণিত টিয়া-ঘুঘুর ডাকে
একটা বাদাম গাছে ঝুলে থাকা বেদনার রঙ, ধূসর বিষন্নতায়।
যখন সময়ের আঁচল থেকে আড়মোড়া ভেঙ্গে জাগতে চায় একটা সকাল,
হয়তো মা তখনও নামাজের পাটিতে, আঙ্গুল তার তসবির দানায়
বাবার নাকডাকার শব্দে মানিয়ে নিয়েছে দেয়ালের কান
নাশতার থালা ঝিমোচ্ছে, মেন্যু জানবার তাগাদা নেই তার
বাসি খাবারে জমে বসেছে উটকো গন্ধের মেহফিল!
আমি তখন বাড়ি থেকে দূরে, একটা উষ্ণ চুমুর মুখোমুখি
সন্নিকটে ঝুলছে দুর্বল ও উপেক্ষিত, রোগা-ক্লান্ত সতর্কবাণী
একজোড়া চোখের সমুদ্রে দেখে নিচ্ছি, নিজের সর্বনাশ!
সময়ের ব্যারিকেড ডিঙ্গিয়ে আমাকে ফিরতে হয় সেখানে,
যেখানে আহত হৃদয়ে জন্মেছিলো একটি পর্তুলিকার চারা
পুরাতন অনলশিখায় নেমেছিলো স্বস্তির নিষ্প্রভতা
দহনকালের সমাপ্তি টেনে এসেছিলো নূতন ব্যথাকে স্বাগত জানাবার সুযোগ…
একটা কবিতা লিখতে গিয়ে-
আমাকে প্রেমিকার পদ রেখে হতে হয় অ্যাকাউন্ট্যান্ট,
ফর্দ নিয়ে বসতে হয় গভীর হিসেবে!
এরপর, গণিতের মারপ্যাঁচ ছাপিয়ে যে দুটো শব্দ বাঁচে
ওদের তুলে রাখতে হয় হতদরিদ্রের শেষ সম্বলের মতো,
ফিরতে হয় খালি হাতে...
শুরু করতে হয় আবার কোনো নতুন ওয়াক্তে,
একটা সম্ভাব্য দিনের সূচনালগ্নে,
কিংবা তারও আগে
মা যখন হয়তো নামাজের পাটিতে,
আঙ্গুল তার তসবির দানায়
বাবার নাক ডাকার শব্দে মানিয়ে নিয়েছে দেয়ালের কান
নাশতার থালা ঝিমোচ্ছে যখন,
বাসি খাবারে জমেছে উটকো গন্ধের মেহফিল!
যে উটকো গন্ধের মতো বিতাড়িত করতে হয় কবিতা লেখার ভাবনা,
বাসি খাবারের সাথে ডাস্টবিনে ফেলে আসতে হয় ছেঁড়া পাতা
যার গর্ভে বেড়ে ওঠার কথা ছিলো একটা কবিতার ভ্রূণ....
ছবিঃ সুরাইয়া হেনা (Pen on paper)