
নৈঃশব্দ্যের আর্তনাদ
শক্তি চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন- "বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো, ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়"
সে পাথর পাবার উপায় বাতলেছিলেন ৫ শব্দে!
কী সহজ ভঙ্গিতে লিখেছিলেন-
"একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা করো"।
এরপর আমরা ভালোবাসতে চেষ্টা করলাম।
বুকের ভেতর ওমন কিছু পাথরের প্রয়োজন আমাদের জানা।
খাঁ খাঁ নৈঃশব্দ্যে আমাদের প্রচন্ড ভীতি জন্মেছে।
আমরা চাই বাড়তি দুটো শব্দ না হোক,
কিছু প্রতিধ্বনিই ফিরে আসুক।
ওরা, আমরা; ভালোবাসতে চেষ্টা করলাম তাই।
কেউ কেউ দেখা পেলো কবির প্রলোভন জাগানো সে নদী, মাছ, মাছের বুক থেকে ঝরে পড়া পাথর ও নদী-সমুদ্র জলের।
ওরা সে পাথরের পাল বিছিয়ে দেখেও এলো বহুদূর হেমন্তের পাঁশুটেনক্ষত্রের দরোজা পর্যন্ত।
কিছু হতভাগা চেষ্টা করে গেলো!
ওদের দলে রইলাম আমি, আমরা, ও অনেকে....
চেষ্টা চললো।
একবার, দু'বার, বারংবার!
ওদিকে রূপোলী মাছ পাথর ঝরাতে ঝরাতে চলে গেলো।
আমাদের আর ভালোবাসা হলো না,
বুকের ভেতর জড়ো হলো না কিছু মহামূল্যবান পাথর!
আমরা নৈঃশব্দ্য আর প্রগাঢ় শূন্যতা নিয়ে বসে থাকলাম কেবল।
আমাদের বুকের ভেতর পড়ে থাকলো একটি জরাজীর্ণ পরিত্যাক্ত শ্মশান...
ছবিঃ সুরাইয়া হেনা

